Ted Turner death news 7 day: বিদায় নিলেন সিএনএন প্রতিষ্ঠাতা ও গণমাধ্যম জগতের কিংবদন্তি টেড টার্নার

আন্তর্জাতিক - প্রকাশিত: ৭ মে ২০২৬, মধ্যরাত ২:০৪
article l 20265126148266506000

Ted Turner death news 7 day- প্রয়াত বিশ্ব গণমাধ্যমে বিপ্লব সৃষ্টিকারী ব্যক্তিত্ব এবং ক্যাবল নিউজ নেটওয়ার্ক (সিএনএন)-এর প্রতিষ্ঠাতা টেড টার্নার। মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৮৭ বছর। বুধবার  সিএনএন প্রতিষ্ঠাতার প্রয়াণের খবরটি নিশ্চিত করেছে। আধুনিক সম্প্রচার সাংবাদিকতার এই রূপকার ৫ সন্তান ও ১৪ জন নাতি-নাতনিসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন (Ted Turner death news 7 day)।

​১৯৮০ সালে টেড টার্নার যখন সিএনএন প্রতিষ্ঠা করেন, তখন ২৪ ঘণ্টা সংবাদ প্রচারের ধারণাটি ছিল একেবারেই নতুন। তার এই সাহসী পদক্ষেপ প্রচলিত সম্প্রচার ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন নিয়ে আসে। বিশেষ করে নব্বইয়ের দশকের শুরুতে উপসাগরীয় যুদ্ধের সরাসরি সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে সিএনএন বিশ্বজুড়ে অপ্রতিদ্বন্দ্বী জনপ্রিয়তা লাভ করে। ওহাইওতে জন্মগ্রহণকারী এই স্পষ্টভাষী মানুষটিকে মিডিয়া জগতে ভালোবেসে ‘মাউথ অব দ্য সাউথ’ বলে ডাকা হতো। কেবল সংবাদ নয়, জনপ্রিয় সিনেমা ও কার্টুন চ্যানেল তৈরির পাশাপাশি খেলাধুলাতেও তার বিশাল অবদান ছিল। ১৯৭৬ সালে তিনি ‘আটলান্টা ব্র্যাভস’ দলটি কিনে নিয়ে সেটিকে আধুনিক রূপ দান করেন।

​দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন। ২০১৮ সালে তিনি নিজেই জানিয়েছিলেন যে, তিনি ‘লুই বডি ডিমেনশিয়া’ নামক মস্তিষ্কের রোগে আক্রান্ত। ২০২৫ সালের শুরুতে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হলেও পরবর্তীতে পুনর্বাসন কেন্দ্রে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে ফিরেছিলেন। তার প্রয়াণে শোক প্রকাশ করে সিএনএনের বর্তমান চেয়ারম্যান ও সিইও মার্ক থম্পসন বলেন, টেড টার্নার ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ ও নির্ভীক নেতা। তিনি সিএনএনের চিরস্থায়ী অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন।

​ব্যবসায়িক সাফল্যের বাইরেও টেড টার্নার ছিলেন একজন অনন্য দানবীর। রাষ্ট্রসংঘকে সহায়তার জন্য তিনি ‘ইউনাইটেড নেশনস ফাউন্ডেশন’ গঠন করেছিলেন। পরিবেশ সংরক্ষণ এবং পারমাণবিক অস্ত্র নির্মূল আন্দোলনেও তার ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। শিশুদের পরিবেশ সচেতন করতে তিনি জনপ্রিয় কার্টুন ‘ক্যাপ্টেন প্ল্যানেট’ তৈরি করেছিলেন। ১৯৯১ সালে টাইম ম্যাগাজিন তাকে ‘ম্যান অব দ্য ইয়ার’ ঘোষণা করে সম্মানিত করে। পরবর্তী সময়ে নিজের নেটওয়ার্ক ‘টাইম ওয়ার্নার’-এর কাছে বিক্রি করে দিলেও সিএনএন-কে তিনি সবসময় নিজের জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন হিসেবে বিবেচনা করতেন। তার প্রয়াণে বিশ্ব গণমাধ্যম এক অপূরণীয় অভিভাবককে হারালো।

Scroll to Top