Tmc – Bjp: বারাসতে ‘রানা সংকল্প সভা’ থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের
SIR নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে তৃণমূলের বড় জয় বলে দাবি
সুমিত দে,বারাসত: এসআইআর সংক্রান্ত মামলায় মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক নির্দেশকে বড়সড় জয় হিসেবে তুলে ধরে (Tmc – Bjp) বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
সোমবার উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতে আয়োজিত তৃণমূল কংগ্রেসের ‘রানা সংকল্প সভা’ থেকে তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি পরিকল্পিতভাবে বাংলার মানুষকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করেছিল, যা আদালতের হস্তক্ষেপে ব্যর্থ হয়েছে।
সভামঞ্চ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, গত প্রায় আড়াই মাস ধরে SIR-এর নামে বাংলার সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দরিদ্র ও প্রবীণ নাগরিকদের চরম হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। সমস্ত বৈধ নথি থাকা সত্ত্বেও বিজেপির প্রভাবাধীন নির্বাচন কমিশন লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছিল বলে তাঁর অভিযোগ।
তিনি জানান, গত ৩১ ডিসেম্বর তৃণমূল কংগ্রেসের ১০ সদস্যের প্রতিনিধি দল নিয়ে তিনি দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সেই বৈঠকে “লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সি”-র অজুহাতে যাঁদের শুনানির নোটিস পাঠানো হয়েছে, সেই প্রায় ১.৩৫ কোটি মানুষের তালিকা প্রকাশের দাবি জানানো হয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশন সেই দাবি নাকচ করে বলে অভিযোগ করেন অভিষেক। তাঁর দাবি, তালিকা প্রকাশ পেলে পুরো চক্রান্ত প্রকাশ্যে চলে আসত বলেই কমিশন তা গোপন রাখতে চেয়েছিল।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, শুনানির সময় তৃণমূলের বুথ লেভেল এজেন্ট (BLA-2) উপস্থিত থাকার দাবিও করা হয়েছিল, কিন্তু সেটিও প্রথমে অস্বীকার করা হয়। তবে সুপ্রিম কোর্টে মামলার শুনানির সময় আদালত সেই দাবিকে স্বীকৃতি দিয়েছে বলে তিনি জানান।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির তালিকা প্রকাশ করতে হবে প্রতিটি পঞ্চায়েতে সেই তালিকা টাঙাতে হবে কাকে, কেন শুনানিতে ডাকা হচ্ছে তা স্পষ্ট করতে হবে শুনানিতে উপস্থিত ব্যক্তিদের রসিদ বা স্বীকৃতি দিতে হবে এবং BLA-2-দের শুনানিতে উপস্থিত থাকতে দিতে হবে।
এই রায়কে “মা-মাটি-মানুষের জয়” বলে আখ্যা দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, বিজেপির লক্ষ্য ছিল বাংলার প্রায় এক কোটি ভোটারের নাম কেটে দেওয়া। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের রায়ে সেই ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়েছে।
সভা থেকে বিজেপিকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করে তিনি বলেন, “আজ আদালতে আপনাদের হার হয়েছে, আর এপ্রিল মাসে ভোটে আপনাদের পরাজয় নিশ্চিত।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, ক্ষমতা কার হাতে— বাংলার ১০ কোটি মানুষের, না বিজেপির “জমিদারদের”?
ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্নে বিজেপিকে কাঠগড়ায় তুলে অভিষেক অভিযোগ করেন, বাংলা ভাষা ও বাঙালি পরিচয়কে আক্রমণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিজেপির নেতারা বাংলা ভাষাকে ‘বাংলাদেশি ভাষা’ বলে কটাক্ষ করছেন। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, বিদ্যাসাগর, স্বামী বিবেকানন্দকে নিয়েও বিজেপি নেতাদের মন্তব্যের উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি।
বিজেপির বিভাজনের রাজনীতির সমালোচনা করে অভিষেক বলেন, হিন্দু-মুসলিম বিদ্বেষ ছড়িয়ে, খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপন নিয়েও নির্দেশ দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি। “কে কী খাবে, কী পরবে, কাকে ভালোবাসবে— এসব দিল্লি থেকে ঠিক করা যাবে না,” স্পষ্ট ভাষায় বলেন তিনি।
ভোট প্রসঙ্গে বার্তা দিতে গিয়ে বনগাঁ সহ উত্তর ২৪ পরগনার মানুষকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, বিজেপি নির্বাচনের সময় টাকা বিলি করবে। সেই টাকা জনগণেরই টাকা— তা নেওয়া যেতে পারে, কিন্তু ভোট দিতে হবে তৃণমূল কংগ্রেসকেই।
সভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আগামী নির্বাচনে বিজেপিকে “উচিত শিক্ষা” দেওয়ার ডাক দেন। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস বিধানসভা নির্বাচনে ২৫০-র বেশি আসন পাবে এবং বিজেপি ৫০-র নিচে নেমে যাবে।
শেষে তিনি বলেন, “এই বাংলা কারও দয়ার দান নয়। এই মাটি স্বাধীনতা আন্দোলন দেখেছে, নবজাগরণ দেখেছে। আমরা বহিরাগতদের কাছে মাথা নত করব না। বাংলা চিরকাল বাংলাই থাকবে।”












