Karina Kaiser demise 17 May: হাসিখুশি মুখটা আর ফিরবে না! চেন্নাইয়ের হাসপাতাল থেকে আজ বিকেলে ফিরছে অভিনেত্রী কারিনার মরদেহ!

শো-বিজ - প্রকাশিত: ১৭ মে ২০২৬, দুপুর ২:১৬
image 387514 1778925836

Karina Kaiser demise 17 May- হাসিখুশি, প্রাণবন্ত আর অদম্য এক প্রতিভার নাম কারিনা কায়সার। যিনি নিজের অভিনয়, চিত্রনাট্য আর কনটেন্ট দিয়ে অল্প দিনেই জয় করেছিলেন লাখো মানুষের মন। কিন্তু জীবনের স্ক্রিপ্টটা যে এত দ্রুত আর নির্মমভাবে শেষ হয়ে যাবে, তা কে জানত! নিয়তির নিষ্ঠুর পরিহাসে লিভারের মারাত্মক জটিলতার কাছে হার মেনে মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে না-ফেরার দেশে চলে গেলেন তিনি। চেন্নাইয়ের ভেলোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার গভীর রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। আজ বিকেলে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের একটি বিশেষ ফ্লাইটে চেন্নাই থেকে তার মরদেহ ঢাকায় এসে পৌঁছানোর কথা রয়েছে (Karina Kaiser demise 17 May)।

​কারিনা কায়সারের এই অকাল মৃত্যুর মূল কারণ ছিল লিভারজনিত অত্যন্ত গুরুতর ও জটিল অসুস্থতা। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি এই সমস্যায় ভুগছিলেন। হঠাৎ করে শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটলে তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন তিনি। কিন্তু অবস্থার কোনো উন্নতি না হয়ে উল্টো লাইফ সাপোর্টে নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়। এরপরই উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে গত সোমবার (১১ মে) বিকেলে তড়িঘড়ি করে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে ভারতের চেন্নাইয়ে নেওয়া হয় এবং ভেলোরের বিখ্যাত খ্রিস্টান মেডিকেল কলেজ (সিএমসি) হাসপাতালে তার চিকিৎসা শুরু হয়।

​চেন্নাইয়ের চিকিৎসকরা আপ্রাণ চেষ্টা করলেও কারিনার শরীরের ভেতরের পরিস্থিতি ততক্ষণে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, কারিনার লিভার প্রায় অকেজো হয়ে পড়েছিল এবং তা প্রতিস্থাপনের (লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট) জরুরি প্রয়োজন ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, কোনো বড় ধরনের অস্ত্রোপচার কিংবা লিভার প্রতিস্থাপনের মতো জটিল ধকল নেওয়ার মতো ন্যূনতম শারীরিক শক্তি বা অবস্থা কারিনার ছিল না। শরীর সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ায় চিকিৎসকদের হাত-পা বাঁধা ছিল। শেষ পর্যন্ত সব চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে শুক্রবার গভীর রাতে চিরদিনের জন্য চোখ বন্ধ করেন এই সম্ভাবনাময় তরুণী।

​পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল শনিবার অন্য একটি এয়ারলাইনসে তার মরদেহ দেশে আনার চেষ্টা করা হলেও নানা জটিলতায় তা সম্ভব হয়নি। অবশেষে আজ রবিবার ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চেন্নাই থেকে তার মরদেহ বহন করে ঢাকায় আনছে। দেশে পৌঁছানোর পর প্রথমে রাজধানীর বনানী ডিওএইচএসে কারিনাদের নিজস্ব বাসভবনে মরদেহ রাখা হবে এবং সেখানে বনানী ডিওএইচএস মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

​‘এ’ লেভেল শেষ করে অস্ট্রেলিয়া থেকে উচ্চশিক্ষা নিয়ে দেশে ফিরেছিলেন কারিনা। কিন্তু কর্পোরেট ইঁদুরদৌড়ে শামিল না হয়ে বেছে নিয়েছিলেন নিজের পছন্দের সৃষ্টিশীল জগৎ। কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে তুমুল জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর সাম্প্রতিক সময়ে ওটিটি প্ল্যাটফর্মে ‘ইন্টার্নশিপ’ এবং ‘৩৬-২৪-৩৬’-এর মতো প্রশংসিত কাজে অভিনয় ও চিত্রনাট্য লিখে নিজের জাত চিনিয়েছিলেন। যখন ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে ওঠার কথা, ঠিক তখনই মাত্র কয়েকদিনের অসুস্থতা কেড়ে নিল এই উজ্জ্বল নক্ষত্রকে।

Scroll to Top