Mamata Banerjee: নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে একগুচ্ছ ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 

ভারত - প্রকাশিত: ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রাত ১০:১৭

১ এপ্রিল থেকে ‘যুব সাথী’, ১৫–২৬ ফেব্রুয়ারি রাজ্যজুড়ে ক্যাম্প, কৃষক ও ক্ষেতমজুরদের জন্য বাড়তি স্বস্তি 

IMG 20260210 WA0016

সুমিত দে,কলকাতা: নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করে সদ্য পেশ হওয়া রাজ্যের অন্তর্বর্তী বাজেটের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সময়সীমা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া স্পষ্ট করলেন মুখ্যমন্ত্রী Mamata Banerjee। তিনি জানান, নতুন প্রকল্পগুলির সুবিধা কবে থেকে এবং কীভাবে সাধারণ মানুষ পাবেন, তা জানাতেই এই বৈঠক ডাকা হয়েছে।

১ এপ্রিল থেকে ‘যুব সাথী’ প্রকল্প

Mamata Banerjee জানান, ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি মাধ্যমিক পাশ যুবক-যুবতীদের জন্য ‘যুব সাথী’ প্রকল্প চালু করা হচ্ছে। ঐক্যশ্রী, মেধাশ্রী, শিক্ষাশ্রী বা স্টুডেন্ট স্মার্ট কার্ডের সুবিধাভোগীরাও এই প্রকল্পের জন্য যোগ্য হবেন, যদি তাঁরা অন্য কোনও আর্থিক সহায়তা প্রকল্পের সুবিধা না পান।

এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য যুবক-যুবতীরা আগামী পাঁচ বছর মাসিক ১,৫০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পাবেন। পাঁচ বছর পূর্ণ হলে প্রকল্পটি ফের পর্যালোচনা করা হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, আগে ১৫ আগস্ট থেকে প্রকল্প চালুর কথা বলা হলেও, অর্থবর্ষের শুরু বিবেচনা করে ১ এপ্রিল ২০২৬ থেকেই এটি কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাজ্যজুড়ে ক্যাম্প, অনলাইন নয়

‘যুব সাথী’সহ একাধিক প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করার জন্য ‘দুয়ারে সরকার’-এর ধাঁচে রাজ্যের ২৯৪টি বিধানসভা কেন্দ্রেই ক্যাম্প বসবে। এই ক্যাম্পগুলি চলবে ১৫ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি, ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, খবরের কাগজে বিজ্ঞাপন দিয়ে এই ক্যাম্পগুলির বিষয়ে জানানো হবে। আবেদনকারীদের সশরীরে উপস্থিত হয়ে আবেদন করতে হবে। অনলাইন পদ্ধতি নেওয়া হচ্ছে না, কারণ সময় কম থাকায় যাচাই প্রক্রিয়ায় দেরি হলে মানুষ বঞ্চিত হতে পারেন। আবেদন জমা দিলে রসিদ দেওয়া হবে এবং পুরো প্রক্রিয়া ডিজিটাল পদ্ধতিতে নথিভুক্ত থাকবে।

কৃষক বন্ধু ও ক্ষেতমজুরদের জন্য সহায়তা

কৃষক বন্ধু প্রকল্পের অধীনে উপভোক্তার মৃত্যু হলে ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয় এবং শস্য বিমার সুবিধাও রয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এক একরের বেশি জমির মালিক কৃষকেরা বছরে ১০,০০০ টাকা এবং এক কাঠা জমির মালিক কৃষকেরা বছরে ৪,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা পান। ক্ষেতমজুরদের জন্য বছরে দু’বার ২,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা পেতে ক্যাম্পে নাম নথিভুক্ত করতে হবে।

সেচের বিদ্যুৎ খরচে বড় ছাড়

মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, সেচের জল বা শ্যালো টিউবওয়েল ব্যবহারের জন্য বিদ্যুৎ দপ্তরে যে ১,৫০০ থেকে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হত, তা এখন মকুব করা হবে। ক্যাম্পে নাম নথিভুক্ত করলে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত সীমার মধ্যে এই পরিষেবা বিনামূল্যে পাওয়া যাবে।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের বর্ধিত টাকা শুরু

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের বর্ধিত আর্থিক সহায়তা ইতিমধ্যেই উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে যেতে শুরু করেছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্য বাজেটের কারণে কিছুদিন দেরি হলেও, ফেব্রুয়ারি মাস থেকেই বর্ধিত অর্থ পাওয়া যাচ্ছে বলে তিনি স্পষ্ট করেন।

উৎসব ও নির্বাচন প্রসঙ্গ

সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আসন্ন রমজান, হোলি, ঈদ ও রামনবমীর শুভেচ্ছা জানান। তিনি বলেন, যদি এই উৎসবগুলির সময় নির্বাচন পড়ে, তাহলে উৎসব ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া একসঙ্গেই চলবে।

Scroll to Top