Mamata banerjee: জগন্নাথ টু শুভেন্দু টু অমিত শাহ! পেনড্রাইভ ফাঁস করে দেব: হুঁশিয়ারি মমতার
দলের সম্পত্তি নষ্ট হলে প্রতিবাদ হবেই
সুমিত দে, কলকাতা: আইপ্যাকের অফিসে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হানার প্রতিবাদে রাজপথে নামার পর এবার একযোগে বিজেপি নেতৃত্ব ও নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী mamata banerjee। শুক্রবার হাজরায় প্রতিবাদ সভার মঞ্চ থেকে সরাসরি নাম করে নিশানা করলেন শুভেন্দু অধিকারী, জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায় এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে।

মিছিল শেষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা স্পষ্ট জানান, “কাল যা করেছি, অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান হিসেবে করেছি। কোনও অন্যায় করিনি।” এরপরই হুঁশিয়ারির সুরে তিনি বলেন, “কয়লার টাকা কে খায়, কী করে খায়? গদ্দারের মাধ্যমে টাকা যায়। এখন সে অ্যাডপটেড সন হয়ে গেছে। জগন্নাথ টু শুভেন্দু টু অমিত শাহ—এই চেনে টাকা যায়।”
হাজরার সভামঞ্চ থেকে সরাসরি বিজেপি নেতাদের উদ্দেশে তোপ দেগে mamata banerjee বলেন, “আমার কাছে সব পেনড্রাইভ রয়েছে। লক্ষ্মণের সীমারেখা পেরিয়ে গেলে আর সামলে রাখতে পারবেন না। আমি অনেক কিছু জানি, কিন্তু দেশের স্বার্থে বলি না। বাড়াবাড়ি করলে সব ফাঁস করে দেব।”

প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবার ইডির তল্লাশির সময় আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি থেকে সবুজ ফাইল হাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বেরোতে দেখা যায়, যা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়। সেই নিয়েই এদিন হাজরার সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “কাল যা করেছি, দলের চেয়ারম্যান হিসেবে করেছি। কোনও বেআইনি কাজ করিনি। তুমি খুন করতে এসেছিলে। চোরের মতো আমার সমস্ত ডেটা চুরি করতে এসেছিলে।” তাঁর সংযোজন, “জোড়াফুলটা যদি রক্ষা না হয়, মানুষের হয়ে লড়াই করব কী করে?” নির্বাচন কমিশনকেও একহাত নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি নাম না করে নির্বাচন কমিশনারকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, “ভ্যানিশ কুমার ভোট ভ্যানিশ করার কে? আপনি কি ম্যাজিশিয়ন? নাগরিকের অধিকার কেড়ে বিজেপিকে জেতানোর চেষ্টা করলে আমরাও তোমার অধিকার কেড়ে নেব।”
তীব্র কটাক্ষের সুরে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “আগে গব্বর সিং দেখিয়ে বাচ্চাদের ভয় দেখানো হত। এখন এরা ভাবছে এজেন্সি দিয়ে মানুষকে ভয় দেখাবে। তুমি আজ মহারাজ, সাধু— আর আমি চোর? কাল ক্ষমতা থেকে চলে গেলে কেউ পাশে থাকবে না।”

আইপ্যাক ইস্যুতে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপের অভিযোগে মমতার এই আক্রমণাত্মক বক্তব্যে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে তীব্রতা ছড়াল বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।












