নাম ভাঙিয়ে সুবিধা চাইলেই ব্যবস্থা, দায়িত্ব নিয়েই পুলিশকে কড়া বার্তা নগরপাল Supratim Sarkar-এর
সুমিত দে, কলকাতা: দায়িত্ব গ্রহণের পরের দিনই কড়া বার্তা দিলেন কলকাতা পুলিশের নবনিযুক্ত নগরপাল Supratim Sarkar। শুক্রবার দায়িত্ব নেওয়ার পর শনিবারই তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন—পুলিশ কমিশনারের নাম ভাঙিয়ে কেউ যদি পুলিশকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করে, তাহলে কোনও অবস্থাতেই তা বরদাস্ত করা হবে না এবং কোনওরকম ‘ফেভার’ দেওয়া চলবে না।
নগরপাল বলেন, যতক্ষণ না পুলিশ কমিশনার নিজে কোনও নির্দেশ দিচ্ছেন, ততক্ষণ তাঁর নাম শুনে কেউ যেন প্রভাবিত না হন। এই মন্তব্যের মাধ্যমে বাহিনীর ভিতরে শৃঙ্খলা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা দেন তিনি।
সভায় নগরপাল আরও জোর দিয়ে বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সময়ের কথা মাথায় রেখে অফিসার থেকে শুরু করে কনস্টেবল—সবাইকে রাস্তায় নেমে ডিউটি করতে হবে। পুলিশকে ভিজিবল থাকতে হবে বলেও নির্দেশ দেন তিনি। কোথাও কোনও ঘটনা ঘটলে, বিশেষ করে থানা বা ট্রাফিক গার্ডের সীমান্ত এলাকায় সমস্যা হলে দায়িত্ব এদিক-ওদিক ঠেলে দেওয়া চলবে না। তাঁর স্পষ্ট বার্তা— “একটাই ইউনিট—কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ।”
থানা ও ট্রাফিক গার্ডের গুরুত্ব বোঝাতে নগরপাল বলেন, “কলকাতা পুলিশের ড্রয়িং রুম ও লিভিং রুম হল থানা এবং ট্রাফিক গার্ড। এগুলো অবশ্যই সাজানো-গোছানো থাকতে হবে।”
এছাড়াও তিনি উল্লেখ করেন, ডিডি (ডেইলি ডায়েরি) ও এআরএস হল পুলিশের ‘কিচেন’, যা কলকাতা পুলিশের স্বাস্থ্য নির্ধারণ করে। সেগুলি সবসময় পরিষ্কার ও সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণের নির্দেশও দেন তিনি।
শনিবার দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই কলকাতা পুলিশের সমস্ত থানা ও ট্রাফিক গার্ডের অফিসারদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন নগরপাল সুপ্রতিম সরকার।
প্রশাসনিক মহলের মতে, দায়িত্ব নেওয়ার শুরুতেই এই কড়া অবস্থান স্পষ্ট করে দিল— শহরের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় তিনি কোনওরকম আপসের পথে হাঁটবেন না।
উল্লেখ্য, এর আগে তিনি দক্ষতার সঙ্গে রাজ্য পুলিশের এডিজি (দক্ষিণবঙ্গ) পদে দায়িত্ব সামলেছেন। অন্যদিকে, কলকাতা পুলিশের পূর্বতন কমিশনার মনোজ বর্মা এবার দায়িত্ব পেয়েছেন ডিরেক্টর অব সিকিউরিটি পদে।
কলকাতা পুলিশের নগরপালের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন আইপিএস সুপ্রতীম সরকার
প্রশাসনিক মহলের মতে, নগরপালের এই নির্দেশ কলকাতা পুলিশের কাজকর্মে আরও শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব আনবে।












