Abhisekh Banerjee: বিজেপিকে বিসর্জন দেওয়ার লড়াই শুরু

ভারত - প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, বিকাল ৫:৫৭

রণসংকল্প সভা থেকে হুঙ্কার অভিষেকের

IMG 20260113 WA0029

সুমিত দে, কোচবিহার:  কোচবিহার (Abhisekh Banerjee) থেকেই বিজেপিকে রাজনৈতিকভাবে “বিসর্জন” দেওয়ার লড়াই শুরু হয়ে গেল। এমনই হুঙ্কার দিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার কোচবিহারের রণসংকল্প সভা থেকে বিজেপিকে নিশানা করে একের পর এক তীব্র আক্রমণ শানান তিনি।

IMG 20260113 WA0032

সভায় যোগ দেওয়ার আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মদনমোহন মন্দিরে পুজো দেন। তিনি বলেন, কোচবিহারে এলে মদনমোহন মন্দিরে না আসা অসম্ভব। ২০২৩ সালে দিনহাটা থেকে নবজোয়ার কর্মসূচি শুরুর আগেও তিনি এই মন্দিরে পুজো দিয়েছিলেন, ২০২৪ সালেও জনসভায় যোগ দেওয়ার আগে প্রার্থনা করেছিলেন।

সভা মঞ্চ থেকে অভিষেক বলেন, কোচবিহারের মানুষের মধ্যে যে আবেগ ও লড়াইয়ের মানসিকতা তিনি দেখছেন, তাতে স্পষ্ট—এই জেলা থেকে বিজেপির বিদায় কেবল সময়ের অপেক্ষা। এই সভাই বিজেপির রাজনৈতিক বিসর্জনের সূচনা বলে মন্তব্য করেন তিনি।

IMG 20260113 WA0030

বিজেপির প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রসঙ্গ তুলে অভিষেক বলেন, “২০১৪, ২০১৬, ২০১৯, ২০২১ এবং ২০২৪—এই প্রতিটি নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-সহ বিজেপির শীর্ষ নেতারা কোচবিহারে এসে একাধিক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। নারায়ণী ব্যাটেলিয়ন, চিলা রায়ের নামে প্যারামিলিটারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, পঞ্চানন বর্মার নামে লাইব্রেরি, মদনমোহন মন্দিরকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র, কোচবিহার স্টেশনে স্পোর্টস হাব, বিমানবন্দর উন্নয়ন—একটাও বাস্তবায়িত হয়নি।”

অভিষেকের অভিযোগ, জেতার পর বিজেপি শুধু প্রতিশ্রুতি ভাঙেনি, SIR ও অসম থেকে পাঠানো ফরেন ট্রাইব্যুনালের নোটিসের মাধ্যমে কোচবিহারের মানুষকে অপমান করেছে এবং রাজ্যের প্রাপ্য উন্নয়ন তহবিলও আটকে রেখেছে।

সভায় কয়েকজন ভোটারের নাম উল্লেখ করে অভিষেক বলেন, “এঁরা সবাই কোচবিহারে জন্মেছেন, এই জেলার মানুষ। অথচ নির্বাচন কমিশন ও মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাঁদের মৃত বলে ঘোষণা করে ভোটার তালিকা থেকে নাম কেটে দিয়েছেন। মানুষ কি এর জবাব দেবে না?”

তিনি আরও বলেন, মানুষের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। দিল্লির “জমিদাররা” শুধু উন্নয়নের টাকা নয়, ভোটাধিকারও কেড়ে নিতে চাইছে বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।

বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণ তুলে ধরে অভিষেক বলেন, কোচবিহারের ৯টি বিধানসভার মধ্যে বর্তমানে বিজেপির দখলে ৬টি এবং তৃণমূলের দখলে ৩টি। তিনি সতর্ক করে বলেন, বিজেপিকে যত জেতানো হবে, মানুষের অধিকার তত খর্ব হবে। তৃণমূল থাকাকালীন দিল্লি বা মধ্যপ্রদেশ থেকে এসে বিজেপি নেতাদের দাদাগিরি চলেনি বলেও দাবি করেন তিনি।

বিজেপির সংস্কৃতি ও ইতিহাস না জানার অভিযোগ তুলে অভিষেক বলেন, “ওরা পঞ্চানন বর্মাকে ‘পঞ্চানন বুরমান’ বলে, চিলা রায়কে ভুলে যায়, সুখতাবাড়ির মানুষকে বাংলাদেশি বলে। বাংলা বললেই যদি বাংলাদেশি বলা হয়, তবে নিশীথ প্রামাণিক, দিলীপ ঘোষ, সুকান্ত মজুমদার কোন ভাষায় কথা বলেন?”

IMG 20260113 WA0033

 

তিনি “জয় বাংলা” স্লোগান দিতে আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাষ্ট্রপতিও যখন ‘জয় বাংলা’ বলেন, তখন অমিত শাহ কে?

SIR ইস্যুতে তীব্র আক্রমণ করে অভিষেক বলেন, এই প্রক্রিয়ার জেরে ৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছে, BLO-রা আত্মহত্যা করেছেন, শুনানির লাইনে দাঁড়িয়ে মানুষ মারা গিয়েছেন। BSF-এর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, দিনহাটায় প্রেমকুমার বর্মণকে ১৭০টি প্যালেট বুলেট ছুড়ে হত্যা করা হয়েছে। কৃষকদের চোরাচালানকারী তকমা দিয়ে খুন করা হচ্ছে। এই সবের দায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের।

কোচবিহারে উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে অভিষেক জানান, পথশ্রী ও রাস্তাশ্রী প্রকল্পে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে। এক সপ্তাহের মধ্যেই কাজ শুরু হবে। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বন্ধ করার বিজেপি নেতাদের মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করে তিনি বলেন, যতদিন তৃণমূল ক্ষমতায় আছে, এই প্রকল্প বন্ধ করা যাবে না।

শেষে অভিষেক বলেন, কোচবিহারের মানুষকে দায়িত্ব নিতে হবে তৃণমূলকে ৯টি আসনেই জেতানোর। তাঁর কথায়, “এবার লড়াই বিজেপি বনাম বাংলা। আপনারা লড়াই করবেন, আমি কোচবিহারের সামগ্রিক উন্নয়নের দায়িত্ব নেব।”

Scroll to Top