mamata banerjee: শিলিগুড়িতে ‘মহাকাল মহাতীর্থ’-এর শিলান্যাস 

ভারত - প্রকাশিত: ১৬ জানুয়ারি ২০২৬, রাত ৮:৪৮

Tmc: উত্তরবঙ্গকে আন্তর্জাতিক ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক পর্যটনের মানচিত্রে তুলে ধরার বার্তা মুখ্যমন্ত্রীর

IMG 20260116 WA0024

সুমিত দে,শিলিগুড়ি:  শিলিগুড়িতে ‘মহাকাল মহাতীর্থ’-এর শিলান্যাস অনুষ্ঠানে একাধিক ঐতিহাসিক ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী mamata banerjee। উত্তরবঙ্গকে আন্তর্জাতিক মানের ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই প্রকল্প—এ কথা স্পষ্ট করে জানালেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আজ বাংলার মুকুটে আরও একটি নতুন পালক যুক্ত হল।”

অনুষ্ঠানের শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী জানান, শিলান্যাস শুভ মুহূর্তেই করা উচিত। সেই কারণেই তাঁর বক্তব্য শেষ হওয়ার পর নির্ধারিত শুভ সময়ে শিলান্যাস সম্পন্ন করা হয়।

‘মহাকাল মহাতীর্থ’— বিশ্বের বৃহত্তম শিব মন্দিরগুলির একটি

Mamata banerjee- জানান, মাটিগাড়ার লক্ষ্মী টাউনশিপ এলাকায় শিলিগুড়ির কেন্দ্রস্থলে ১৭.৪১ একর জমির উপর নির্মিত হবে ‘মহাকাল মহাতীর্থ’। ইতিমধ্যেই জমি বরাদ্দ ও টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। দ্রুত জমি ভরাটের কাজ শুরু হবে এবং পুরো প্রকল্প শেষ করতে সময় লাগবে প্রায় ২ থেকে ২.৫ বছর।

এই মন্দির হবে বিশ্বের বৃহত্তম শিব মন্দিরগুলির মধ্যে একটি। মূল রাস্তা থেকেই মন্দির চত্বর দৃশ্যমান হবে এবং প্রতিদিন প্রায় ১ লক্ষ পুণ্যার্থী ও দর্শনার্থী এখানে আসতে পারবেন।

২১৬ ফুট উচ্চতার মহাকাল মূর্তি

মন্দির প্রকল্পের অন্যতম আকর্ষণ হবে বিশ্বের উচ্চতম মহাকাল মূর্তি। মুখ্যমন্ত্রী জানান, এই মূর্তির মোট উচ্চতা হবে ২১৬ ফুট। ব্রোঞ্জ দিয়ে নির্মিত মূল মূর্তির উচ্চতা হবে ১০৮ ফুট এবং যার উপর এটি স্থাপন করা হবে সেই ভিত্তির উচ্চতাও হবে ১০৮ ফুট।

মহাকাল মিউজিয়াম, জ্যোতির্লিঙ্গ ও প্রদক্ষিণ পথ
মন্দিরের পেডেস্টাল ব্লকের ভিতরে দোতলা বিশিষ্ট ‘মহাকাল মিউজিয়াম’ ও সাংস্কৃতিক হল তৈরি হবে।

মন্দির চত্বরে থাকবে দুটি প্রদক্ষিণ পথ, যেখানে একসঙ্গে ১০ হাজার তীর্থযাত্রী অবস্থান করতে পারবেন। এছাড়া চত্বরের সীমানা ঘেঁষে থাকবে ১২টি অভিষেক লিঙ্গ মন্দির, যেখানে ভারতের ১২টি জ্যোতির্লিঙ্গের রেপ্লিকা স্থাপন করা হবে। পূর্ব ও পশ্চিম দিকে থাকবে দুটি নন্দী গৃহ। শিবালয়ের রীতি মেনে চার কোণে চার দেবতার অবস্থান থাকবে— গণেশ, কার্তিক, শক্তি ও বিষ্ণু।

পর্যটন, ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মহাকাল মহাতীর্থ’ শুধু ধর্মীয় তীর্থস্থান নয়, এটি উত্তরবঙ্গের অর্থনৈতিক উন্নয়নেরও চালিকাশক্তি হবে। এখানে আন্তর্জাতিক মানের কনভেনশন সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। বেসরকারি সংস্থাকে বিনামূল্যে জমি দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন তিনি।

এর ফলে শিলিগুড়ি আর শুধুমাত্র যাতায়াতের করিডর হিসেবে থাকবে না, এটি ধর্মীয় পর্যটন, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও ব্যবসার বড় হাবে পরিণত হবে। হোটেল শিল্পের বিকাশ ঘটবে, স্থানীয় কারিগর ও ব্যবসায়ীদের জন্য সারা বছর কাজের সুযোগ তৈরি হবে।

ধর্মীয় পর্যটনে বাংলার সাফল্যের নজির

নিজের বক্তব্যে মুখ্যমন্ত্রী বাংলার বিভিন্ন ধর্মীয় পর্যটন প্রকল্পের সাফল্যের কথাও তুলে ধরেন। দিঘার জগন্নাথ ধাম, নিউটাউনের দুর্গা অঙ্গন, গঙ্গাসাগর মেলা ও গঙ্গাসাগর সেতু, জল্পেশ মন্দিরের স্কাইওয়াক, কালীঘাট ও দক্ষিণেশ্বরের স্কাইওয়াক—সবকটির কথাই উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি জানান, গঙ্গাসাগরে এবার ১.৩০ কোটির বেশি পুণ্যার্থী এসেছিলেন এবং রাজ্য সরকার তাদের থাকা-খাওয়ার সম্পূর্ণ ব্যবস্থা করেছিল। গঙ্গাসাগর সেতু নির্মাণে ১৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে।

সব ধর্ম, সব সংস্কৃতির সহাবস্থান

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বাংলা সব ধর্মের, সব ভাষার, সব সংস্কৃতির। একতা ছাড়া কোনও সমাজ এগোতে পারে না।” তিনি শ্রীকৃষ্ণের উপদেশের কথা স্মরণ করে বলেন, ধর্ম মানে মানবতা, পবিত্রতা ও ঐক্য।  ফুরফুরা শরিফ, জয়রামবাটী-কামারপুকুর, বিভিন্ন হিন্দু তীর্থক্ষেত্রের উন্নয়নের পাশাপাশি কবরস্থানের সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

উত্তরবঙ্গে উন্নয়নের একাধিক ঘোষণা

উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, কালিম্পংয়ে একলব্য মডেল স্কুলের নতুন ভবনের শিলান্যাস হয়েছে। উত্তরবঙ্গে ৩৭টি নতুন বাস চালু হবে—এর মধ্যে ৩১টি সিএনজি ও ৬টি ভলভো স্লিপার বাস। এছাড়া উত্তরবঙ্গ থেকে দিঘা পর্যন্ত সরাসরি ভলভো বাস পরিষেবাও চালু হবে। চা শ্রমিকদের জন্য ‘চা সুন্দরী’ প্রকল্প, জমির পাট্টা, আর্থিক সহায়তা, ক্রেশ ও ‘চা সাথী’ স্কুল বাস পরিষেবার ঘোষণাও করেন তিনি।

বাঙালিদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ

বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে পরিযায়ী বাঙালি শ্রমিকদের উপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলায় এমন বিভাজনের রাজনীতি হয় না। “আমরা সবাইকে ভালোবাসি, এটাই বাংলার সংস্কৃতি,”— বলেন তিনি।

শুভ মুহূর্তে শিলান্যাস

বিকেল ৪টে ১৫ মিনিটের পর নির্ধারিত শুভ মুহূর্তে মহাকাল মহাতীর্থের শিলান্যাস সম্পন্ন হয়।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আমি বাংলার পর্যটনকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাব, পাহাড় ও সমতলের আধ্যাত্মিক বন্ধন আরও মজবুত হবে।”

Scroll to Top